গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, আমি জীবনে কখনো স্পোর্টসম্যানদের খারাপ কাজে সম্পৃক্ত হতে দেখিনি।
তরুণ সমাজের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানের অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখে আসছি।
তিনি জানান, এটি দেশের সর্ববৃহৎ ও আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স হতে যাচ্ছে, যেখানে এশিয়ান গেমসসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এটিকে এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, কমপ্লেক্সটি ঢাকার ফোর লেন মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হলেও যাতায়াত আরও সহজ করতে ঢাকা থেকে শাটল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, রাস্তা নির্মাণসহ বেশ কিছু কাজ অগ্রগতি পেয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমপ্লেক্সে ২৩টি ইনডোর গেমস, ৭টি আউটডোর গেমস এবং ৩টি অ্যাকোয়াটিক গেমসহ মোট ৩৩টি ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা যাবে।
এ সময় সেনাপ্রধান পেশাদারি, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে জেনারেল কমান্ডিং অফিসার (আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
