
রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ইউক্রেনের ৪০ সেনা ও ১০ নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। এছাড়াও পাল্টা হামলায় রাশিয়ার ৫০ সেনা নিহত, ৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে।
সকালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে। উত্তরে বেলারুশ এবং দক্ষিণে ক্রিমিয়া থেকে সেনা প্রবেশ করছে বলে জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অভিযান শুরুর পরপরই সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সব শঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে অবশেষে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করলো রাশিয়া। এর আগে রাশিয়ার এই সামরিক অভিযানে ৭ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের নিরাপত্তাবাহিনী। বৃহস্পতিবার টেলিভিশন বক্তব্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে পুতিন বলেন, ইউক্রেন থেকে আসা হুমকির জবাবে এ পদক্ষেপ। তবে রাশিয়া কোনভাবেই ইউক্রেন দখল করতে চায় না। যেকোন ধরণের রক্তপাতের জন্য ইউক্রেন দায়ী থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। অন্য কোন দেশকে এ সংঘাতে না জড়াতেও সতর্ক করেন পুতিন।
ইউক্রেনের নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ওদেসার বাইরে পোডিলস্ক শহরের একটি সেনা ঘাঁটিতে হওয়া হামলায় ছয়জন মারা গেছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন। পুলিশ আরো জানিয়েছে যে মারিউপল শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানায় পুলিশ।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উত্তরে বেলারুশ এবং দক্ষিণে ক্রিমিয়া থেকে সেনা প্রবেশ করছে। অভিযান শুরুর পরপরই সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে রুশ সেনাবাহিনীর বহর ইউক্রেনের উত্তরে চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চল দিয়ে এবং পূর্বাঞ্চলে লুহানস্ক ও খারকিভ অঞ্চল দিয়ে দেশটির ভেতরে প্রবেশ করেছে বলে জানাচ্ছে ইউক্রেনের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী ডিপি এস ইউ।
ডিপি এস ইউ বলছে, কামানের গোলা চালানোর পর রুশ সেনাবাহিনী সীমান্তের ভেতরে আগ্রাসন শুরু করে। সংস্থাটি জানিয়েছে ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী ও সশস্ত্র বাহিনী শত্রুকে প্রতিহত করতে সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষনায় বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের এমন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। দনবাসের স্বাধীন দুটি প্রজাতন্ত্র আমাদের কাছে সাহায্য চেয়েছে। জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি সেখানে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইউক্রেনের সেনাদের অবিলম্বে অস্ত্র রেখে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে রাজধানী কিয়েভের আকাশ সীমায় রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এছাড়াও স্কুল-কলেজ বন্ধসহ সবাইকে কাজে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রুশ অভিযান শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইউক্রেনের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য জানান সেদেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেন্সকি। বেলারুশ থেকে রুশ সেনারা প্রবেশ করেছে বলে জানান তিনি। রাশিয়ার ওপর অবিলম্বে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জানিয়েছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি এক বক্তব্যে বলেন, প্রিয় ইউক্রেনবাসী, রাশিয়া আমাদের সামরিক অবকাঠামো, আমাদের সীমান্তরক্ষীদের উপর হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের অনেক শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আমরা দেশজুড়ে সামরিক আইন জারি করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের সহায়তার জন্য কাজ করছে। চিন্তার কিছু নেই, আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত এবং আমরা সবাইকে পরাজিত করবো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রুশ প্রতিরক্ষাবাহিনী জানিয়েছে, তারা শুধু সামরিক অবকাঠামো ও সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।