বাবার দেখানো পথে হাঁটলেন পুত্র তারেক রহমান। নির্বাচনি ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সোমবার থেকেই শুরু হলো এই মহা কর্মযজ্ঞ।
সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে একই ধরনের কর্মসূচির সূচনা করেন। গ্রামীণ কৃষি উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন তিনি। দেশে কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল তার সেই উদ্যোগ।
জিয়াউর রহমানের সময় এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দেশ গড়ার কাজে নেমে পড়েছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আয়েশি জীবন রেখে কৃষক-শ্রমিকের সঙ্গে কোদাল-কাস্তে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছোটেন জিয়া।
জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দিনাজপুরে যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তার প্রায় পাঁচ দশক পর সেই ধারাবাহিকতায় সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কাজের উদ্বোধন করলেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দেশ জুড়ে উদ্বোধন করেছেন এই কর্মসূচি। সে সময় ‘খাল খনন’ প্রকল্প ছিল শহিদ জিয়ার একটি জাতীয় আন্দোলন। বর্ষার পানি ধরে রাখা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নৌযোগাযোগ ফিরিয়ে আনা—সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল এই উদ্যোগ। এতে গ্রামবাংলার ছোট-বড় খালগুলো ফিরে পেয়েছিল জীবনস্রোত।
একইভাবে গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকার সাহাপাড়া খালে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরসহ দেশের ৫৪ জেলায় খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূচনা হলো।
সাহাপাড়া খালের দৈর্ঘ্য ১২.২ কিলোমিটার এবং এটি পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। খালটি পুনঃখনন হলে এলাকার সেচব্যবস্থা উন্নত হবে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনের আগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে এলাকার সাধারণ মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং মানুষ প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন।
