রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় একটি পলিথিন কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং আশপাশের ভবনগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
যেভাবে আগুনের সূত্রপাত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারখানাজুড়ে। কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ পলিথিন, প্লাস্টিক কাঁচামাল ও অন্যান্য দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলী হোসেন বলেন,
“হঠাৎ দেখি কারখানার ভেতর থেকে আগুন বের হচ্ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো বিল্ডিং আগুনে ঢেকে যায়। আমরা সবাই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বের হয়ে আসি।”
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা খবর পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স–এর একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে কামরাঙ্গীরচরের সংকীর্ণ রাস্তা ও ঘনবসতির কারণে দমকল বাহিনীর গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। এছাড়া আগুনের তীব্রতা ও ঘন ধোঁয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকল কর্মীরা। আগুন যাতে আশপাশের বসতবাড়ি ও অন্যান্য কারখানায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা না গেলেও ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুনে কারখানার বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, পলিথিন দ্রব্য এবং যন্ত্রপাতি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। কারখানার শ্রমিকরা আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও অভিযোগ কামরাঙ্গীরচরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকার ভেতরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ মাহমুদ বলেন,
“এলাকায় রাস্তা এতটাই সরু যে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতেই দেরি হয়। আজ যদি আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।”
প্রশাসনের ভূমিকা ও দাবি স্থানীয়রা দাবি করেছেন, আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং নিয়মিত তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধোঁয়া কমে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে এমন ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারখানা সরিয়ে নেওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
