1. info@dainikshomayershangbad.com : editor :
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে : রাষ্ট্রপতি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল নিবন্ধন, কিউআর কোড ও ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি. অর্গানাইজেশন দৈনিক সময়ের সংবাদ dainikshomayershangbad.comএর ১৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ছে। ডি এস সংবাদ লিমিটেড এর পক্ষ থেকে দৈনিক সময়ের সংবাদ dainikshomayershangbad.comএর ১৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ছে। দৈনিক ডি এস সংবাদ ডটকম, দৈনিক সময়ের সংবাদ dainikshomayershangbad.comএর ১৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ছে। দৈনিক সময়ের সংবাদ বাংলা, দৈনিক সময়ের সংবাদ dainikshomayershangbad.comএর ১৪তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ছে। দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দৈনিক সময়ের সংবাদ dainikshomayershangbad. Comএর ১৪তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উৎসব মূখর পরিবেশে উদযাপিত।

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী

Reporter Name
  • টাইম আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশে কোনো আইন করা হচ্ছে না।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা আগামীতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা চলছে।’

আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে যেকোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার দেওয়াও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সকালে কন্সালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এজন্যই আমরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছি।

তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’

গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সংশোধন করছি না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা আছে, আপনারা মুক্তমনে পরামর্শ দিন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।’

কন্সালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে যেন আইনটি পরিমার্জন করা হয়, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।’

সভায় অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

কন্সালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয়।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি দিয়ে নারী, শিশু এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তাদের জবাবদিহিতার বিধানও আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।’

মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কন্সালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন।

তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ এবং সাজা বাড়ানের চেয়ে অপব্যবহার রোধের কার্যকর মেকানিজম তৈরির প্রতি জোর দেন। একইসাথে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া কন্সালটেশন সভায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদকবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

More News Of This Category
© All rights reserved © 2013 dainikshomayershangbad.com
Theme Customized BY NewsFresh.Com