কোকোর দায় বর্তাচ্ছে খালেদার উপর

image_198930.koko-khaledaড্যান্ডি ডায়িংয়ের ৪৫ কোটি টাকা ঋণ খেলাপীর মামলায় মৃত আরাফাত রহমান কোকোর দায় বর্তাচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপর। আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ায় ড্যান্ডি ডায়িংয়ের খেলাপি ঋণের মামলায় খালেদা জিয়াকে বিবাদীভূক্ত করার আবেদন জানানোর ফলে এ দায় বর্তাচ্ছে। একইসঙ্গে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের উপরও বর্তাচ্ছে এর দায়ভার। গত ৮ মার্চ খালেদাসহ অন্যদের বিবাদীভূক্ত করার জন্য ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে আবেদন জানান সোনালী ব্যাংকের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন। আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোকসানা আক্তার হ্যাপি সোমবার এ আবেদনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

এছাড়াও একইদিন হাইকোর্টের আদেশ দাখিল ও বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্যও দিন ধার্য রয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ২২নং আদেশের বিধি-৪ অনুসারে কোকোর সম্পদের উত্তরাধিকারীরা বিবাদীভূক্ত হবেন। যেহেতু বাংলাদেশে শরীয়াহ আইনের বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টিত হয় সেজন্যই খালেদা জিয়া, কোকোর স্ত্রী ও তার সন্তানরা বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন। তবে উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমান আগে থেকেই বিবাদী থাকায় নতুন করে বিবাদীভূক্ত করার আবেদন জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে মামলাটি করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় এ নিয়ে ১৩ বার ইস্যু গঠনের জন্য তারিখ পেছানো হয়। মামলার বিবাদীরা হলেন- ড্যান্ডি ডায়িং লি., প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের ছেলে শামস এস্কান্দার ও সাফিন এস্কান্দার, মেয়ে সুমাইয়া এস্কান্দার, স্ত্রী বেগম নাসরিন আহমেদ, তারেক রহমান, আরাফাত রহমান, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মামুনের স্ত্রী শাহীনা ইয়াসমিন, কাজী গালিব আহমেদ, শামসুন নাহার ও মাসুদ হাসান।

এ মামলার ১০ নম্বর বিবাদী মোজাফফর আহমেদ মারা গেলে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে মাসুদ হাসানকে বিবাদীভূক্ত করা হয়। গত বছরের ২ অক্টোবর ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে ৪৫ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৫ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলাটি করেন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা ড্যান্ডি ডাইংয়ের পক্ষে ১৯৯৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংকে ঋণের জন্য আবেদন করেন। ওই বছরের ৯ মে সোনালী ব্যাংক বিবাদীদের আবেদনকৃত ঋণ মঞ্জুর করেন।

২০০১ সালের ১৬ অক্টোবর বিবাদীদের আবেদনক্রমে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সুদ মওকুফ করেন। এরপর ঋণ পুনঃতফসিলিকরণও করা হয়। কিন্তু বিবাদীরা ঋণ পরিশোধ না করে বরাবর কালক্ষেপণ করতে থাকেন। মামলায় আরো অভিযোগ করা হয়, ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও বিবাদীরা কোনো ঋণ পরিশোধ করেননি।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

2017-10-13_6_7243

বিশ্ব দরবারে দেশের জেলাগুলোকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

  সরকার পর্যটন, পণ্য ও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এই তিনটি ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের কাছে দেশের প্রতিটি জেলাকে তুলে ধরার কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি বিশ্বের সামনে প্রতিটি জেলার সম্ভাবনাসমূহ বিশেষ করে পর্যটনকে তুলে ধরার কাজ হাতে নিয়েছে। এটুআই কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার আজ বাসস’কে বলেন, ‘দেশের পাশাপাশি সবগুলো জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা বিশ্বের সামনে একটি জেলার সবকিছু তুলে ধরতে চাই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলারই পর্যটন এলাকায় বিশেষ পণ্য অথবা খাদ্য এবং বিশেষ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ন্যায় কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মহাপরিচালক (প্রশাসন) আনোয়ার বলেন, ডিস্ট্রিক্ট-ব্রান্ডিং হচ্ছে একটি জেলার ইতিহাস, ...

211120journalist-1-20171011202940

সাংবাদিকের কলার ধরে মারধর ট্রাফিক সার্জেন্টের

এবার সাংবাদিককে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধর করলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। রাজধানীর  মৎস্য ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম মুস্তাইন। সার্জেন্টের মারধরে আহত সাংবাদিকের নাম নাসির উদ্দিন। তিনি মানবজমিন পত্রিকায় কাজ করেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মৎস্য ভবনের সামনে নাসিরকে আটকে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান সার্জেন্ট মুস্তাইন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার সঙ্গে হেলমেট না থাকায় একটি মামলা দিতে চান সার্জেন্ট। মামলা না দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি এবং মামলা দেন। এ সময় নাসির ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করার সঙ্গে সঙ্গে তার জামার কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে পুলিশ বক্সে নিয়ে যান ওই সার্জেন্ট। নাসির বলেন, আমি সার্জেন্টকে ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com