১০ নয় ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে বাবা রাম রহিমকে

image-46566

ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিমকে  ১০ নয় ২০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুই নারী ভক্ত(সাধ্বী)-কে ধর্ষণের দুটি পৃথক মামলার রায়ে ১০ বছর করে পর পর ২০ বছর কারাভোগ করতে হবে বলে বিচারক রায় দেন।

আজ সোমবার স্থানীয় সময় সাড়ে তিনটার দিকে সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো(সিবিআই)’র বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিং এই রায় দেন। পাশাপাশি প্রত্যেক মামলায় ১৫ লাখ রুপি করে মোট ৩০ লাখ রুপি অর্থদণ্ড দেয়া হয়। তারমধ্যে ১৪ লাখ রুপি প্রত্যেক ভিকটিমকে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

বিচারকের রায় ঘোষণার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা রাম রহিম। তিনি আদালতের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান এবং আদালত কক্ষ ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। পরে জোরজবরদস্তি তাকে আদালতের বাইরে বের করা হয়। রায় ঘোষণার পর পরই হরিয়ানার সিরসায় দুটো গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় ডেরা সমর্থকরা।

১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০২ সালে দুই নারী সাধ্বীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করার মামলায় বাবা রাম রহিমের বিরুদ্ধে আদালত এই রায় দেয়।

রায় ঘোষণার পর রাম রহিমকে মেডিকেল চেকআপের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর তাকে জেলের পোশাক দেয়া হবে এবং জেলে আলাদা ঘরে রাখা হবে।

এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে সানোরিয়া কারাগারে উড়ে যান সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিংহ ও দুই পক্ষের আইনজীবীরা। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই কারাগারে অস্থায়ী আদালত পরিচালনা করা হয়। কারাগারটি ঘিরে রেখেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। রায় ঘোষণার আগে দুপক্ষের আইনজীবীদের ১০ মিনিট করে বক্তব্য রাখার সময় দেন বিচারক।

এই সময় রাম রহিমের আইনজীবী বলেন, ‘বাবা রাম রহিম সমাজ সেবার কাজ করেন। তাই মহামান্য বিচারক যেন তার শাস্তি কমিয়ে দেন।’

কারাগারের বাইরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে প্রায় তিন হাজার আধা সামরিক বাহিনী ও দাঙ্গা পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে রোহতক শহরের প্রান্তে সুনারিয়া জেলের দিকে যে সমস্ত রাস্তা গিয়েছে, তার সবগুলোই আটকে দেয়া হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। রোহতক এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের অভ্যন্তরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যেকোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে তার এক ঘন্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।

রোহতকের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, কেউ সহিংসতা করার চেষ্টা করলে একবার সতর্ক করা হবে, না শুনলেই চলবে গুলি।

হরিয়ানার পুলিশ জানিয়েছে, আমরা পাঁচকুলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। হরিয়ানা ঘেঁষা পাঞ্জাব, গাজিয়াবাদ ও নয়ডাতেও স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে শুক্রবার থেকে রোহতকের সুনারিয়ার জেলে বন্দি ডেরা সাচা সওদার প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। শুক্রবার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। রায় বের হতেই ডেরা সমর্থকদের লাগামছাড়া তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৮ জনের। ডেরা সমর্থকদের না ঠেকাতে পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে হরিয়ানা প্রশাসন। সেই দিনের কথা মাথায় রেখে আজ আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি প্রশাসন। নিরাপত্তার স্বার্থে জেলের মধ্যে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসা হয়েছে বিচারকসহ গোটা আদালত। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রোহতক।

সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের সেই বিচারক জগদীপ সিংকে ইতিমধ্যেই বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। ডেরার সদর দপ্তর থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৩০ হাজার ভক্তকে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

ভারতের যেসব নববধুদের কুমারীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়

হিন্দুদের পুরাণ ‘রামায়ণ’-এ সীতাকে অগ্নি পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। অনেক সীতাকে এখনও দিতে হয় অনেকটা সেইরকমই ‘অগ্নি পরীক্ষা’। সীতাদের নাম হয়তো বদলে গিয়ে কোথাও হয়েছে অনিতা বা অন্য কিছু। ঘটনাও ‘রামরাজ্য’ অযোধ্যার পরিবর্তে হয়েছে মহারাষ্ট্রের কঞ্জরভাট নামে আদিবাসীদের সমাজ। ওই সমাজের সদ্য বিবাহিত নারীদের পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ের দিন পর্যন্ত তাঁদের কৌমার্য বজায় আছে। নবদম্পতির বিছানায় পাতা সাদা চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই পাওয়া যায় প্রমাণ। তবেই সমাজ মেনে নেয় যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর নিজের কৌমার্য প্রমাণে ব্যর্থ হলে নববধূর কপালে জোটে জুতোপেটা, অথবা বের করে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে। “আমি তখন বেশ ছোট। বছর ১২ বোধহয় ...

155510a1

ছয়টি নতুন আইনে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর

বছরের শুরুতেই ছয়টি আইন কার্যকর হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনে পাস হওয়া এ সংক্রান্ত বিলগুলো আজ সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সম্মতি পেয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার উপ-পরিচালক মো. নূরুল হুদা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। বিলগুলো হলো মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল ২০১৮, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস বিল ২০১৮, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০১৮, ব্যাংক-কম্পানি (সংশোধন) বিল ২০১৮, কৃষিকাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা বিল ২০১৮ এবং বীজ বিল ২০১৮। আরো পড়ুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন  এখন গেজেট প্রকাশিত হলেই বিলগুলো আইনে পরিণত হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে বলে জানা গেছে। আরো পড়ুন ‘জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত খালেদা ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com