কুড়িগ্রাম ও রংপুরের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে অবনতি

2017-08-16_6_125952

দেশের উত্তর অঞ্চলের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ব্রহ্মপুত্র নদীর উজানের অংশে (কুড়িগ্রাম, রংপুর) উন্নতি হলেও জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে পরিস্থিতি অবনতিশীল রয়েছে। এই বন্যা দেশের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করার আশংকা রয়েছে।
গঙ্গা অববাহিকার পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মধ্যাঞ্চলের ঢাকার চতুর্দিকের ৫টি নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে.মি হতে ১৩৬ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।
বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়।
দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি প্রবাহের ৯০টি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষন অনুযায়ী ৬০টি পয়েন্টের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, হ্রাস পেয়েছে ২৬টি পয়েন্টে এবং ৪টি পয়েন্টের পানি প্রবাহ অপরিবর্তিত রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় ৯০টি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষন অনুযায়ী ২৯ পয়েন্টের পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ভারতীয় অংশের আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টায় গড়ে ২৫ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেতে পারে । বাংলাদেশ অংশের উজানে (নুনখাওয়া, চিলমারী) আগামী ৪৮ ঘণ্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে। ভাটির অংশে, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে যা আগামী ২৪ ঘন্টায় কমতে শুরু করবে এবং সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে আগামী ২৪ ঘন্টায় স্থির হয়ে পরবর্তীতে হ্রাস পেতে শুরু করবে।
এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘণ্টায় অব্যাহত থাকবে, তবে তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে। এই অববাহিকার উজানে নেপালে ও বিহারে বন্যা পরিস্থিতি থাকার ফলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে ।
মেঘনা অববাহিকার নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টায় হ্রাস অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের উজানের তিনটি অববাহিকার মধ্যে গঙ্গায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের উজানের তিনটি পয়েন্টে (গোহাটি, পান্ডু,গোয়ালপাড়া) পানি হ্রাস পাচ্ছে ও ধুবরী পয়েন্ট পানি স্থিতিশীল রয়েছে। অপরদিকে মেঘনা অববাহিকায় পানি হ্রাস অব্যাহত আছে। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর ভারতীয় অংশের গোহাটিতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৮০ কি.মি. উজানে) ২৯ সে.মি, পান্ডুতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ১৬০ কি.মি. উজানে) ২৪ সে.মি , গোয়ালপাড়ায় (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ৯০ কি.মি. উজানে) ৯ সে.মি হ্রাস পেয়েছে এবং ধুবরীতে (বাংলাদেশ সীমান্ত হতে ২৫ কি.মি. উজানে) ৩ সেমি. বৃদ্ধি পেয়েছে তবে গতকাল সন্ধ্যা হতে ধুবরী পয়েন্টে পানি স্থিতিশীল রয়েছে ।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্রহ্মপুত্রের কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েণ্টে পানি হ্রাস পেয়েছে, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে স্থিতিশীল রয়েছে এবং সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জ, আরিচা পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ।
মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে , ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেঘনা অববাহিকার অধিকাংশ নদীর পানিও হ্রাস অব্যাহত আছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার (উজানের অংশ ব্যতীত) বন্যা পরিস্থিতি অবনতিশীল রয়েছে।
তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকার নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে, এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে ।
গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ০.৭৫ থেকে ১.৫০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে ।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

3-11-388x291

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে “শেখ হাসিনা নগর থানা” বাস্তবায়ন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

  ‘‘শেখ হাসিনা নগর’’ হিসেবে বাস্তবায়ন করার জন্য আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমি সর্বাত্বক চেষ্টা করব বলে মত প্রকাশ করেন সংগঠনের আহবায়ক এ্যাডভোকেট আবু সাঈদ খোকন(বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট)। “শেখ হাসিনা নগর’ থানা সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে হাজারো জনতার উপস্থিতিতে এমনই মত প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি, এবং সংগঠনটির আহাবায়ক আবু সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত আমাদের কামরাঙ্গীচরে ১২ থেকে ১৪ লক্ষ মানুষ বসবাস করছে। আমাদের এলাকাটি এক সময় অবহেলিত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে কোন মেগাসিটির চেয়েও এখন আমরা অনেক উন্নত। আমাদের অবহেলিত এই কামরাঙ্গী চরকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ ...

দেশের তাপমাত্রায় রেকর্ড : সর্বনিম্ন তেঁতুলিয়ায়

সারা দেশে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।শীতে কাঁপছে দেশ। চলমান শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড করা হয়েছে।দেশের উত্তরের শেষ প্রান্ত পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এত দিন পর্যন্ত সেটাই ছিল দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর জেলায় সোমবার দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com