এক দেহে দুই ব্লাডগ্রুপ! এ কেমন অসুখ! (ভিডিও)

BAdsjn_Blood group

একই মহিলার দু’টি ব্লাডগ্রুপ। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে এই ধরনের বিরল ঘটনা দেখা যায় ১ জনের মধ্যে। জলপাইগুড়ির ২৩ বছরের মহিলা মাম্পি রায়ের শরীরেও রয়েছে দু’টি ব্লাড গ্রুপের রক্ত।

জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে মাম্পি রায়ের রক্ত পরীক্ষার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মহিলার রক্তে লোহিত কণিকার গঠনের জন্যই এই বিরল ঘটনার শিকার তিনি। মাম্পি অন্য কারোর থেকে রক্ত নেন, তা এবি নেগেটিভ হতে হবে। কিন্তু তিনি যদি অন্য কাউকে রক্ত দেন তা হলে তা এবি পজিটিভ হয়ে যাবে।

গত রবিবার থেকে জলপাইগুড়ির গুয়াবারি এলাকার গ‌ৃহবধূ মাম্পি রক্তাপ্লতা, দুর্বলতা, খিদে না পাওয়ার উপসর্গ নিয়ে ভরতি ফিমেল মেডিক্যালে। পেশায় দিন মজদুর মাম্পির স্বামী মন্টু রায় জানান, গত ৩০ জুলাই জেলা সদর হাসপাতালে তাঁর স্ত্রীকে ভর্তি করা হয়। সেদিনই জেলা হাসপাতালে মাম্পির রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায় তাঁর ব্লাডগ্রুপ এবি নেগেটিভ।

এর পরে আবার ৩১ জুলাই পরীক্ষা দেখা যায় তাঁর ব্লাডগ্রুপ এবি পজিটিভ। তখন মাম্পির পরিবার বেসরকারি ল্যাবে তাঁর ব্লাডগ্রুপ পরীক্ষা করায়। সেই পরীক্ষাতেও দেখা যায়, তাঁর ব্লাডগরুপ এবি পজিটিভ। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল জানায় তাঁর ব্লাডগ্রুপ এবি নেগেটিভ।

গর্ভবতী অবস্থায় মাম্পির রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল তাঁর ব্লাডগ্রুপ এবি নেগেটিভ। জানিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই প্রসঙ্গে স্বামী মন্টু রায় অবাক হয়ে বলেন, ‘‘একই ব্যক্তির শরীরে কী করে আলাদা আলাদা রক্তের গ্রুপ হয়। আমি অত কিছু জানি না। গরিব মানুষ। স্ত্রীকে সুস্থ করে দিক চিকিৎসকেরা এই কামনাই করছি। চার বার বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করে দুই ধরনের ব্লাডগ্রুপ পাওয়া গিয়েছে। সন্তান প্রসবের সময় স্ত্রীর রক্ত ছিল এবি নেগেটিভ।’’

 

জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নষ্কর বলেন, ‘‘প্রথমে আমরাও বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম বিভিন্ন জায়গায় রক্তের গ্রুপ ভিন্ন আসায়। তার পরে সরকারি চিকিৎসক, প্যাথোলজিস্টদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

জানা গিয়েছে, ওই মহিলার রক্তের লোহিত কণিকায় রেসেস ফ্যাক্টর আছে। যাতে এই তিনি কাউকে রক্ত দিলে তখন সেই রক্ত এবি পজিটিভ হিসেবেই গণ্য করা হবে, কারণ দেওয়ার সময়ে নেগেটিভের মাত্রা খুবই নগণ্য থাকে। কিন্তু নিজে নেওয়ার সময়ে এবি নেগেটিভ রক্ত নিতে হবে।’’

মাম্পি রায়কে এক বোতল রক্ত দেন ময়নাগুড়ির বাসিন্দা তপন মণ্ডল। তিনি জানান, ‘‘আমি এই ধরনের বিরল ঘটনায় রক্ত দিতে পেরে কৃতজ্ঞ। ওঁর সুস্থতা দ্রুত কামনা করি।’’

মাম্পিদেবীকে এই রক্ত দেবার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কোনও রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না সেই দিকেও নজর রাখা হয়েছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

095006Rangpur_KalerKantho

রংপুরে বাসচাপায় প্রাণ হারালেন অটোরিকশার ৩ যাত্রী

  রংপুর শহরের হাজীরহাট এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ইজিবাইকের ৩ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩ জন। আজ রবিবার সকাল ৭টার দিকে হাজীরহাট ব্রিজ সংলগ্ন আকিজ কোম্পানির সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি নৈশকোচ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীবোঝাই একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মারা যান। রংপুর কোতোয়ালী থানার এসআই মনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের কাছে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মরদেহগুলি উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

এক রুটিতে দিন পার করা সেই ছেলেটি আজ বিসিএস ক্যাডার!

বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার মতো ভালো কোনো পোশাক ছিল না ছেলেটির। এক বন্ধু তখন পাশে এসে দাঁড়ায়। আর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো দিন সকালে নাশতা করেননি। শুধু দুপুরের দিকে পাঁচ টাকা দামের একটা পাউরুটি খেয়ে দিন পার করতেন। সেই ছেলেটিই আজ বিসিএস ক্যাডার। শুনুনু তাহলে অদম্য সেই ছেলেটির গল্প- আবু সায়েমের বাড়ি কুড়িগ্রামে। বাবা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সে আয়ে তিনবেলা ভাত জুটত না। বাড়তি আয়ের জন্য মা কাঁথা সেলাই করতেন। তারপর সে কাঁথা বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন। কত দিন কত রাত সায়েম যে না খেয়ে কাটিয়েছেন, সে হিসাব নিজেও জানেন না। আজ সায়েমের কষ্টের দিন ঘুচেছে। ৩৫তম বিসিএসে ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com