প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির কার্যকর নীতি গ্রহণ করুন : বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি শেখ হাসিনা

 

2017-04-19_8_941316থিম্পু (ভুটান), ১৯ এপ্রিল ২০১৭: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ প্রতিবন্ধী এবং অটিজম আক্রান্ত লোকজনকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য কার্যকর নীতি এবং কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্বের সকল দেশগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা এদের বহুমুখি প্রতিভাকে স্বীকৃতি প্রদানে সংকল্পবদ্ধ হই, যাদের এই অসামঞ্জস্যতার কোন চিকিৎসা নেই তাদের মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দিই। যাতে করে তারা সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে এখানে অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ক ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ অতিথি হিসেবে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এবং সূচনা ফাউন্ডেশন ( পূর্বের নাম গ্লোবাল অটিজম), অ্যাবিলিটি ভুটান সোসাইটি (এবিএস) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়ের কারিগরি সহযোগিতায় রয়্যাল ব্যাংকুয়েট হলে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে।
এবারের কনফারেন্সের থিম হচ্ছে- ‘এএসডি ও অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ও টেকসই বহুমুখি কর্মসূচি’। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসারিং তোবগে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তৃতা করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ডা. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন। ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী লিয়নপো তানদিন ওয়াংচুক সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
এই সেশনের প্যারেন্ট স্পিকার ছিলেন চিম্মী লাদেন। সেন্ট্রোল অ্যান সুলেভান দেল পেরু’র প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী পরিচালক ডা. ইয়োল্যান্ডা মায়া ওর্তেগা ‘ দুটি পরিবারের সদস্য এবং পেশাজীবীদের সম্মিলিতভাবে কার্জ সম্পাদনে অটিজম আক্রান্তরা কিভাবে স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী এবং সুখী হিসেবে গড়ে উঠতে পারে’ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
ভুটানের রাণী জেটসান পেমা এবং সূচনা ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশের অটিজম এবং নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার সম্পর্কিত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপার্সন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভুটানের ঐতিহ্যবাহী মার্চাঙ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কনফারেন্সের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ঝুঁকির মুখে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা সকল দেশের জন্যই প্রয়োজনীয় এবং সরকারগুলোর উচিত এজন্য নীতি এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করা। যাতে করে কোন নাগরিকই যেন অবহেলার স্বীকার না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তারা (অটিজম আক্রান্তরা) দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগের দাবিদার। তিনি বলেন,‘এটা আমাদেরই কর্তব্য তাদের জন্য জীবনের প্রতিটি স্তরে শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সামাজিক এবং মেডিকেল সাহায্য প্রদান করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) বিষয়ে অর্থনৈতিক এবং কারিগরিভাবে সীমাবদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কাঠামোগত পদ্ধতি নির্ধারণের সচেতনতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদেরকে দিক-নির্দেশনা প্রদানের মত কোন মডেল বা নির্দেশিকা এতদিনেও তৈরী হয়নি,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, যেসব কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আন্তঃদেশীয় বা অন্তঃদেশীয় কর্মকান্ডের সমন্বয় করাটা খুব জরুরী। আর এটার ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সকল দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অটিজম এবং অন্যান্য নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সার্ভিস ডেলিভারি মডেল কখনও কার্যকর হতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে পর্যাপ্ত এবং অদূর ভবিষ্যতের জন্য ও টেকসই-মজবুত হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে ডাটার স্বল্পতা, সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন, প্রমাণভিত্তিক ইন্টারভেনশন কর্মসূচি এবং বিদ্যমান থাকা কর্মসূচি এবং সেবার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। ‘এজন্য কখনো কখনো মানসম্পন্ন কর্মসূচিও বড় বড় শহর কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর বাইরে পৌঁছতে পারে না কিংবা তাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে গৃহীত সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাকশন প্লান ২০১৩-২০২০’তে পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে যে, এই বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক অসাঞ্জস্য দূর করতে হলে ‘গ্যাপ’ চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরো জোরালো করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে দেশগুলোর জন্য করণীয় ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং এজন্য বিভিন্ন টুল গ্রহণ এবং বর্জন করার সক্ষমতা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা এবং সার্ভিস উন্নয়নের স্বল্পতা আমাদের কর্মপ্রয়াসকে অর্থনৈতিকভাবে এবং নৈতিকভাবে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিঘ্নিত করছে।

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

720180606061142

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু

  ‘কোনো মানুষের যদি দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে, কেউ যদি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত হতে, মাথা উঁচু করে চলবে এই ধরনের চিন্তা চেতনা যদি কারো থাকে, তাহলে কেউ ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারবে না।’ ‘এভাবে অর্বাচীনের মতো, অজ্ঞর মতো কথা বলা, তাদের পক্ষেই সম্ভব। এ থেকেই জাতি বুঝতে পারে তারা আসলে দেশকে ভালোবাসে না…’ । ‘না, একেবারে অর্বাচীন, অজ্ঞ, টেকনোলজি সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই, এখান থেকেই বুঝা যায়। এরা দেশ চালিয়েছে, তাহলে দেশের উন্নতি হবে কীভাবে? এরা ক্ষমতায় আসলে দেশ উন্নত হবে না।’ ‘তাদের চিন্তা ভাবনা এত সংকীর্ণ, যখন এই অঞ্চলে সাবমেরিন ...

asif-20180606121025

কণ্ঠশিল্পী আসিফের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। বুধবার (৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসিফকে আদালতে আনা হয়। পরে তার রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। দুপুর ১টায় ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়,  বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রলয় রায় (উপ পুলিশ পরিদর্শক সিআইডি ঢাকা) পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসিফ আকবরকে আদালতে হাজির করেন। আবেদনে বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আসামি আসিফ। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অশ্লীল বক্তব্য প্রকাশ করে এবং মিথ্যা কথা বলে ফেসবুক লাইভে এসে ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com