বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতিচিহ্ন পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

192314hasian_প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পুরাতন ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরের বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা স্মৃতি জাদুঘর এবং জাতীয় চারনেতার স্মৃতি ভাস্বর জাতীয় চারনেতা স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
পাকিস্তান সরকারের সময় দীর্ঘকাল কারাগারে কাটানো বঙ্গবন্ধুর সে সময়কার ব্যবহার্য নানা সামগ্রী দেখে প্রধানমন্ত্রী এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝেই দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান। সেখানে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং জাতিয় চারনেতার প্রতি স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শেখ রেহানার পুত্র রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, সাবেক সাংসদ ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড.একে আব্দুল মোমেন,মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ,প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুল ইসলাম এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধুর অনেত স্মৃতি বিজড়িত সাবেক এই কেন্দ্রিয় কারাগারে প্রবেশ করেই বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর কিছুক্ষন নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহান স্থপতির প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত কারা কক্ষটি (বর্তমান বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘর) ঘুরে দেখেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এই কেন্দ্রিয় কারাগারেই জেল হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়া কক্ষটিতে যান (বর্তমান জাতীয় চারনেতা স্মৃতি জাদুঘর)। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট চার সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজউদ্দিন আহমদ ,সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণের পর জাতীয় চারনেতার সন্মানে তিনি সেখানে নীরবে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন।
এরআগে আইজি প্রিজন বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইফতেখারুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে এই স্থানে নির্মাণাধীন সরকারের অন্যান্য প্রকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করেন।
এ বছরই ঢাকার কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করায় নাজিম উদ্দিন রোডের এই পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের অভ্যন্তরের দুইটি ঐতিহাসিক জাদুঘর জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারের অভ্যন্তরে ২০১০ সালের ৮ মে পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামে গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করা কক্ষটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা স্মৃতি জাদুঘর এবং জাতীয় চারনেতার হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার কক্ষটিকে জাতীয় চারনেতা কারা স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে উদ্বোধন করেন।

– See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/11/05/425429#sthash.wh1rmDXR.dpuf

print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*


*

x

Check Also

2017-10-13_6_7243

বিশ্ব দরবারে দেশের জেলাগুলোকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

  সরকার পর্যটন, পণ্য ও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ এই তিনটি ক্ষেত্রের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বের কাছে দেশের প্রতিটি জেলাকে তুলে ধরার কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি বিশ্বের সামনে প্রতিটি জেলার সম্ভাবনাসমূহ বিশেষ করে পর্যটনকে তুলে ধরার কাজ হাতে নিয়েছে। এটুআই কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার আজ বাসস’কে বলেন, ‘দেশের পাশাপাশি সবগুলো জেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা বিশ্বের সামনে একটি জেলার সবকিছু তুলে ধরতে চাই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলারই পর্যটন এলাকায় বিশেষ পণ্য অথবা খাদ্য এবং বিশেষ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের ন্যায় কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মহাপরিচালক (প্রশাসন) আনোয়ার বলেন, ডিস্ট্রিক্ট-ব্রান্ডিং হচ্ছে একটি জেলার ইতিহাস, ...

211120journalist-1-20171011202940

সাংবাদিকের কলার ধরে মারধর ট্রাফিক সার্জেন্টের

এবার সাংবাদিককে প্রকাশ্য রাস্তায় মারধর করলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। রাজধানীর  মৎস্য ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম মুস্তাইন। সার্জেন্টের মারধরে আহত সাংবাদিকের নাম নাসির উদ্দিন। তিনি মানবজমিন পত্রিকায় কাজ করেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মৎস্য ভবনের সামনে নাসিরকে আটকে গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চান সার্জেন্ট মুস্তাইন। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার সঙ্গে হেলমেট না থাকায় একটি মামলা দিতে চান সার্জেন্ট। মামলা না দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি শোনেননি এবং মামলা দেন। এ সময় নাসির ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করার সঙ্গে সঙ্গে তার জামার কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে পুলিশ বক্সে নিয়ে যান ওই সার্জেন্ট। নাসির বলেন, আমি সার্জেন্টকে ...

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com